Ticker

6/recent/ticker-posts

Header Ads Widget

মহাসড়কে আলু ফেলে চাষিদের বিক্ষোভ

 

হিমাগারে রাখতে প্রতি কেজি আলুর জন্য ৮ টাকা নির্ধারণ করায় বিক্ষোভ করেছেন কৃষকরা। হিমাগার মালিকদের স্বেচ্ছাচারিতার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে বুধবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রংপুর প্রেসক্লাবের সামনে নগরীর প্রধান সড়কে আলু ফেলে বিক্ষোভ করেছেন চাষিরা।

এর আগে আলু চাষিরা প্রেসক্লাবের সামনে বিক্ষোভ, মানববন্ধন ও সমাবেশ করেন। সমাবেশে বক্তব্য দেন আনোয়ার হোসেন বাবলু, আরেফিন তিতু, আব্দুস সালামসহ আলু চাষিরা।







আলু চাষিরা অভিযোগ করেন, আলুর রাজধানী বলে খ্যাত রংপুরে এবার রেকর্ড পরিমাণ জমিতে আলু চাষ হয়েছে। গত বছরও হিমাগারগুলো প্রতি বস্তা আলু রাখতে ২০০ থেকে ২৫০ টাকা হিমাগার ভাড়া নিতো। কিন্তু এবার হিমাগার মালিকরা আলু চাষিদের জিম্মি করে প্রতি বস্তা বাদ দিয়ে কেজি হিসেবে আলু রাখার ঘোষণা দিয়েছে। প্রতি কেজি আলু রাখতে ৮ টাকা দর নির্ধারণ করেছে- যা আলু চাষিদের ওপর নির্যাতনের শামিল। এতে প্রতি বস্তা আলু রাখতে ৬০০ টাকা পড়বে। অর্থাৎ বস্তা প্রতি ৪০০ টাকা এক লাফে বৃদ্ধি করা হয়েছে।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া রংপুরের মাহিগঞ্জ এলাকার আলু চাষি শরীফুল ইসলাম বলেন, গত বছর রংপুরে রেকর্ড পরিমাণ প্রায় ১৫ লাখ মেট্রিক টন আলু উৎপাদন হয়েছিল। জেলার চাহিদা মাত্র দেড় লাখ টন- ফলে সাড়ে ১৩ লাখ মেট্রিক টন আলু দেশের বিভিন্ন জেলার চাহিদা মিটিয়েছে। তারপরও আলু মৌসুম শেষে প্রতি কেজি আলু বিক্রি হয়েছে ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজি। ওই দাম সাধারণ আলু চাষিরা না পেলেও পেয়েছে বড় বড় ব্যবসায়ী আর সিন্ডিকেট চক্র। তারপরও আলুর চাহিদা মাথায় রেখে রংপুরে এবার রেকর্ড পরিমাণ জমিতে আলু চাষ হয়েছে। আশা করা যায়, এবার উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ২০ লাখ মেট্রিক টন ছাড়িয়ে যাবে।

তিনি বলেন, তা ছাড়া এমনিতেই এবার বীজ আলুর দাম ৫/৬ গুণ বেশি দরে কিনতে হয়েছে। তার ওপর সার কীটনাশক ও শ্রমিক মজুরি দিয়ে প্রতি কেজি আলু উৎপাদন খরচ অনেক বেশি হয়েছে। আলু চাষ বেশি হওয়ায় হিমাগার মালিকরা অধিক মুনাফার জন্য তারা সমিতি করে প্রতি কেজি আলু রাখতে আট টাকা দর নির্ধারণ করেছে। যা মরার উপর খাড়ার ঘা হয়ে দেখা দেবে।

রংপুরের বলদীপুকুর এলাকার আলু চাষি রফিকুল ইসলাম অভিযোগ করেন, তিনি এবার পাঁচ বিঘা জমিতে আলু চাষ করেছেন। এবার আলু বীজ ৩/৪ গুণ বেশি টাকা দিয়ে কিনতে হয়েছে। শ্রমিক মজুরি, সারসহ অন্য খরচ মিলে উৎপাদন খরচ অনেক বেশি পড়েছে। কিন্তু হিমাগার মালিকরা সিন্ডিকেট করে যেখানে এক কেজি আলু রাখতে দেড় টাকা পড়তো এক লাফে ৮ টাকা নির্ধারণ করে দিয়েছে। এতে আলু চাষিরা এত বেশি দামে আলু সংরক্ষণ করতে পারবে না। ফলে তাদের আলু চাষ করে ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে  হবে। তিনি হিমাগার মালিকদের স্বেচ্ছাচারী সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে আন্দোলনে নামতে বাধ্য হয়েছেন।

একই কথা বলেন আন্দোলনে অংশ নেওয়া আলু চাষি সালাম, রহমানসহ অনেকেই। হিমাগার কর্তৃপক্ষ দাম না কমালে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন আলু চাষিরা।

Post a Comment

0 Comments