মাছ ধরতে গিয়ে ভারতের মেঘালয়ে আটক হয়েছেন কুড়িগ্রামের সাতজন জেলে। দীর্ঘ ছয় মাস ধরে তারা আমপাতি জেলার একটি কারাগারে বন্দি রয়েছেন বলে জানা গেছে। সীমান্ত অতিক্রম করে অবৈধভাবে প্রবেশের অভিযোগে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) তাদের গ্রেপ্তার করে।
আটককৃতরা সবাই পেশাদার জেলে, যাদের বাড়ি কুড়িগ্রামের চিলমারী, রৌমারী ও রাজিবপুর উপজেলায়। প্রতিবছরই তারা বৈধভাবে পারমিট নিয়ে ভারতে গিয়ে মাছ শিকার করতেন। কিন্তু এবার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করতে না পারায় তারা বিকল্প পথ বেছে নিতে বাধ্য হন। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানান, গত বছরের ৩ নভেম্বর তারা বাড়ি থেকে বের হয়ে পরদিন রাজিবপুরের জিঞ্জিরাম নদীপথে ভারতের সীমানায় প্রবেশ করলে বিএসএফ তাদের আটক করে।
এরপর পরিবারগুলোর পক্ষ থেকে বহু খোঁজাখুঁজি চললেও কোনো খোঁজ মেলেনি। অবশেষে সম্প্রতি ভারতের মেঘালয়ের এক স্থানীয় বাসিন্দার মাধ্যমে গোপনে পাঠানো চিঠির মাধ্যমে তাদের অবস্থান সম্পর্কে জানা যায়। ওই চিঠিতে জানানো হয়, তারা বর্তমানে মেঘালয়ের কালাইর চর পেট্রোল থানার আওতাধীন আমপাতি এলাকায় একটি কারাগারে বন্দি রয়েছেন এবং দ্রুত মুক্তি না পেলে স্থায়ী সাজার আশঙ্কা রয়েছে।
আটকদের মধ্যে রয়েছেন চিলমারীর হরিনের বন্দের বাসিন্দা রাসেল মিয়া, ব্যাপারী পাড়ার বিপ্লব মিয়া, মীর জাহান আলী, বকুল মিয়া, ও আমির আলী। এছাড়া রাজিবপুরের বালিয়ামারীর আঙ্গুর হোসেন এবং রৌমারীর যাদুর চর বকবান্ধার চাঁন মিয়াও রয়েছেন তাদের সঙ্গে।
মীর জাহান আলীর স্ত্রী ববিতা বেগম বলেন, “সংসার এখন একেবারে অচল হয়ে গেছে। বাচ্চাদের নিয়ে না খেয়ে থাকতে হচ্ছে।” বিপ্লব মিয়ার স্ত্রী কাজলী বেগম জানান, “স্বামী প্রতিবছর বৈধ পথে যেতেন। এবার কাগজ না পাওয়ায় বাধ্য হয়ে গিয়েছিল, এখন শুনি ভারতে বন্দি।”
স্থানীয় ইউপি সদস্য রুকুনুজ্জামান স্বপন বলেন, “ওনারা নিয়মিত মাছ ধরতেন ভারতে। এবার রাজনৈতিক জটিলতায় বৈধভাবে যেতে না পারায় বিপাকে পড়েছেন।” চিলমারী উপজেলা চেয়ারম্যান গোলাম আশেক আঁকা এবং ইউএনও সবুজ কুমার বসাক জানিয়েছেন, বিষয়টি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে জানানো হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে।
পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তাদের দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন সরকারের কাছে।
প্রতিবেদকঃ মাইদুল ইসলাম মামুন
0 Comments