নাজমুল হোসাইন—একজন স্বপ্নবাজ তরুণ, যিনি কুড়িগ্রামের প্রকৃতি, সংস্কৃতি ও সৌন্দর্যকে তুলে ধরতে বেছে নিয়েছেন ক্যামেরা ও ড্রোনকে। তাঁর জন্মস্থান কুড়িগ্রাম জেলার ভূরুঙ্গামারী উপজেলার পাইকেরছড়া ইউনিয়নের গছিডাঙা গ্রামে। পিতা একজন ব্যবসায়ী হলেও নাজমুলের জীবনজুড়ে ছিলো সৃষ্টিশীলতা আর শেকড়ের প্রতি টান।
শৈশব কেটেছে নাগেশ্বরী উপজেলার ভুসুটারী গ্রামে, নানার বাড়িতে। প্রাথমিক শিক্ষার হাতেখড়ি হয় ভূরুঙ্গামারী কিশলয় বিদ্যানিকেতনে, পরে চলে আসেন নাগেশ্বরী ১নং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মাধ্যমিক শেষ করেন নাগেশ্বরী কেরামতিয়া বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে, ২০১৪ সালে এসএসসি পাস করেন। এরপর তিনি ভূরুঙ্গামারী সরকারি কলেজ থেকে পড়াশোনা শেষ করেন।
ছোটবেলা থেকেই নাজমুলের শখ ছিলো ছবি তোলার। সময়ের সঙ্গে সেই শখ নেশায় রূপ নেয়। ২০১৬-১৭ সালে ফেসবুকে টুকটাক ভিডিও আপলোড দিয়ে শুরু হয় তাঁর অনলাইন যাত্রা। তবে সেই সময়ও সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোচনায় আসার কোন তাড়া ছিলো না।
২০২৩ সালের শেষের দিকে তাঁর ভেতর জন্ম নেয় এক নতুন স্বপ্ন—নিজ জেলার কুড়িগ্রামকে নতুনভাবে রিপ্রেজেন্ট করার। নদী-চর-বন্যা আর মানুষের গল্পে ঘেরা কুড়িগ্রামকে তিনি দেখতে চাইলেন এক অন্য চোখে। নিজের সঞ্চিত অর্থ দিয়ে কিনে ফেলেন একটি ড্রোন, যেটিই হয়ে ওঠে তাঁর সঙ্গী। ৩১ ডিসেম্বর ২০২৩ তারিখে একটি ফেসবুক পেইজ খুলে শুরু করেন ভ্রমণভিত্তিক শর্ট ভিডিও তৈরি। ভিডিওগুলোতে কুড়িগ্রামের অপরূপ প্রকৃতি, নদী-চরের বৈচিত্র্য ও মানুষের সরলতা তুলে ধরতে থাকেন তিনি।
মানুষের ভালোবাসায় এগিয়ে যেতে থাকেন তিনি। তাঁর ভিডিও দেখে কুড়িগ্রামে ঘুরতে আসার আগ্রহ প্রকাশ করেন অনেকেই। গত এক বছরে প্রায় ৪০-৫০ জন পর্যটক কুড়িগ্রাম ঘুরতে এসেছেন তাঁর অনুপ্রেরণায়, আর নাজমুল নিজে ছিলেন তাঁদের সঙ্গী—নদী থেকে চর, চর থেকে গ্রাম ছুটে বেড়িয়েছেন তাদের সঙ্গে।
নাজমুলের স্বপ্ন একটাই—একদিন দেশের নানা প্রান্তের মানুষ কুড়িগ্রামে ঘুরতে আসবে, দেখবে তিস্তা, ধরলা, ব্রম্মপুত্র আর দুধকুমারের বৈচিত্র্যময় সৌন্দর্য। দেখবে এখানকার বিনয়ী, পরিশ্রমী মানুষদের জীবন।
এই তরুণ শুধু একজন ভিডিও ক্রিয়েটর নন, তিনি হয়ে উঠেছেন কুড়িগ্রামের গর্ব, একজন সংস্কৃতি-দূত।
প্রতিবেদকঃ মাইদুল ইসলাম মামুন
0 Comments