Ticker

6/recent/ticker-posts

Header Ads Widget

বিরল রোগে আক্রান্ত মোকাররমের পাশে রশিদ মন্ডল যুব ফাউন্ডেশন

 

প্রতিবেদকঃ মাইদুল ইসলাম মামুন, হামার কুড়িগ্রাম


মাত্র ১২ বছর বয়সেই জীবনযুদ্ধের করুণ বাস্তবতার মুখোমুখি হয় এক প্রতিভাবান কিশোর নাগেশ্বরীর উপজেলার কালীগঞ্জের চর বেগুনী পাড়ার মোঃ মোকাররম। ২০১৩ সালে পঞ্চম শ্রেণিতে পড়াকালীন তার দেহে হালকা চুলকানির উপসর্গ দেখা দেয়, যা ধীরে ধীরে পুরো শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। এরপরই থেমে যায় তার স্বাভাবিক জীবনধারা ও শিক্ষাজীবন।

মোকাররমের পরিবার শুরু থেকেই দারিদ্র্য ও নানা প্রতিকূলতায় জর্জরিত। বাবা মোঃ কোরবান আলী; মা ছিলেন মৃত বাহার উদ্দিন। চার ভাইয়ের মধ্যে মোকাররম তৃতীয়, বড় ভাই মানসিক প্রতিবন্ধী যাকে প্রায়শই শৃঙ্খলিত রাখতে হয়। এমন পরিস্থিতিতে মোকাররমকে প্রাথমিকভাবে কুড়িগ্রাম পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে চিকিৎসা নিতে নেওয়া হয়। চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শে তাকে পরে ঢাকার পিজি হাসপাতালে রেফার করা হয়।

সেখানে প্রথমে ২৫ জন এবং পরবর্তীতে আরও শতাধিক চিকিৎসক রোগটি শনাক্তের চেষ্টা করলেও কেউ নির্দিষ্টভাবে রোগ নির্ণয় করতে পারেননি। ১২ দিন পর্যবেক্ষণের পর তাকে ৪৫ দিনের জন্য বাড়ি পাঠানো হয়। আর্থিক সঙ্কটে সেই সময়ের পর আর হাসপাতালে ফেরা সম্ভব হয়নি। এরই মধ্যে ২০১৬ সালে মারা যান তার মা এবং একই বছর আগুনে পুড়ে যায় ঘরসহ সমস্ত চিকিৎসাসংক্রান্ত কাগজপত্র।

রোগটির প্রকোপ এতটাই ভয়াবহ যে মোকাররম ঠিকমতো বসতে পারে না, স্পষ্টভাবে কথা বলতে পারে না এবং দেহজুড়ে চরম জ্বালাপোড়া সহ্য করতে হয়। ২০২৪ সালে স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, যেখানে তার রোগ আংশিকভাবে শনাক্ত হয়। জানা যায়, এটি একটি অত্যন্ত বিরল রোগ, যা বিশ্বব্যাপী মাত্র ৩০০ জনের শরীরে দেখা গেছে, আর বাংলাদেশে মোকাররমই একমাত্র আক্রান্ত ব্যক্তি। এখনো পর্যন্ত এর নির্দিষ্ট কোনো চিকিৎসা নেই।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে মোকাররম চিকিৎসার জন্য দেশবাসীর কাছে সহায়তা কামনা করে। ভিডিওটি রশিদ মন্ডল যুব ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান মিজানের দৃষ্টিগোচর হলে তিনি দ্রুত মোকাররমের পাশে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন।

১ মে, তিনি মোকাররমের বাড়িতে গিয়ে তার প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ওষুধ ও নগদ ৬ হাজার টাকা সহায়তা প্রদান করেন। একইসঙ্গে পরিবারকে আশ্বস্ত করেন, ভবিষ্যতেও তিনি মোকাররমের পাশে থাকবেন।

এসময় উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি মোবারক আলী, যিনি বলেন, “আমি ব্যক্তিগতভাবে এবং সরকারি উদ্যোগেও চিকিৎসায় সহায়তা করেছি। কিন্তু এই জটিল রোগের এখনো নিশ্চিত নির্ণয় সম্ভব হয়নি। নিয়মিত যে ওষুধটি দেওয়া হচ্ছে, সেটাও সংগ্রহ করা পরিবারের পক্ষে অত্যন্ত কষ্টকর।”

উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় মানবতাবাদী লাভলু, গ্রীন ভয়েস নাগেশ্বরী উপজেলা শাখার সভাপতি মাইদুল ইসলাম মামুন, প্রথম টিভির প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক মুহতাসিম বিল্লাহসহ আরও অনেকে।

এলাকাবাসী এই সহানুভূতিশীল উদ্যোগে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং মোকাররমের চিকিৎসা ও জীবনধারার জন্য একটি দীর্ঘমেয়াদী ও টেকসই সমাধানের দাবি জানান।


মোকাররমের পরিবারের নম্বরঃ 01719163638

Post a Comment

0 Comments