Ticker

6/recent/ticker-posts

Header Ads Widget

বোকা বানানোর কারিগর ‘ফুল’

 

কুড়িগ্রামে পুষ্টি কার্ডের নামে প্রতারণা

বোকা বানানোর কারিগর ফুল

* প্রতি সদস্যের কাছ থেকে নিয়েছে ৩৯০ টাকা * জেলা সদরেই সদস্য আছে হাজার ৮০০ জন

 

 

 


 

পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের পুষ্টি স্বাস্থ্যসেবার নামে কুড়িগ্রাম পৌর এলাকায় প্রতিটি ওয়ার্ডে মা শিশুর স্বাস্থ্য পুষ্টির কার্ড দিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে জেলার বেসরকারি যুব সংস্থা ফাইট আনটিল লাইট (ফুল) শিশুদের স্বাস্থ্য পুষ্টি সেবা দেওয়ার নামে সদস্য ফি বাবদ ৩৯০ টাকা করে তুলে সাধারণ মানুষকে বোকা বানিয়েছে সংস্থাটি। স্বাস্থ্যসেবা তো দূরের কথা পরিবারগুলো পাইনি সুযোগ-সুবিধাও। উল্টো অভিযোগ রয়েছে মেয়াদহীন হ্যান্ড সানিটাইজার।

সংস্থাটির দাবি জেলার পৌর এলাকার তাদের সদস্য রয়েছে এক হাজার ৮০০ জন। সে হিসেবে এই বেনামি প্রকল্প দেখিয়ে তারা এখন পর্যন্ত হাতিয়ে নিয়েছে সাত লাখ দুই হাজার টাকা। তবে এই প্রকল্পের বাইরেও তাদের উপজেলাগুলোতে আরো নানা প্রকল্প রয়েছে।      

 

সূত্র বলছে, কুড়িগ্রাম জেলা সদরের খলিলগঞ্জ (শান্তিনগর) এলাকায় অবস্থিত ‘ফাইট আনটিল লাইট (ফুল) যুব সংস্থার নির্বাহী পরিচালক আব্দুল কাদের তার স্বাস্থ্য মাঠকর্মী দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কৌশলে পুষ্টি স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার কথা বলে সদস্যদের কাছ থেকে ফি ছবি তোলা বাবদ টাকা নিচ্ছে।

 

তাদের রয়েছে ওয়ার্ডভিত্তিক স্বাস্থ্যকর্মী। সংস্থাটির বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, তারা মূলত প্রশাসনের গণমাধ্যমের বিভিন্ন কর্তা ব্যক্তিদের ভুল বুঝিয়ে দরিদ্র মানুষকে সহায়তার নামে ১০ টাকার হাটে শাড়ি, লুঙ্গি বিক্রির অনুষ্ঠানে অতিথি করে প্রশাসনের কাছে নিজেকে মহৎ ব্যক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেন। সেই সঙ্গে দরিদ্র পরিবারের জন্য কম দামে সবজি ক্রয়ের বাজার বসিয়ে আব্দুল কাদের বিভিন্ন এলাকায় কয়েকটি অনুষ্ঠান করে তা পত্রিকায় ফলাও করে প্রচার করেন।

কুড়িগ্রাম সদরের গোরস্থানপাড়ার বাসিন্দা হাজরা খাতুন কালের কণ্ঠকে বলেন, আমি ফুলের ‘মা শিশু স্বাস্থ্য সহায়তা প্রকল্পের সদস্য হই আজ থেকে দেড় বছর আগে।

 

সে সময় তারা আমার কাছ থেকে প্রথমে ৩০০ টাকা, পরে ৯০ টাকা নেয় ছবি তোলার কথা বলে। সদস্য হওয়ার পর তারা শুধু একবার আমার বাচ্চার ওজন মাপে।

সংগঠনটির আরেক সদস্য গৌরি রাণী রবিদাস তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমার ছেলে নাম পার্থ রবিদাস, তার বয়স পাঁচ বছর। ছেলের ভালো স্বাস্থ্যসেবা পাব বলে; কিন্তু ফুল থেকে আমরা কিছুই পাইনি। একদিন তাদের স্বাস্থ্যকর্মী আমাদের কিছু হ্যান্ড স্যানিটাইজার দিছিল, সেগরাল (স্যানেটাইজার) মেয়াদ ছিল না।

শুধু হাজরা গৌরি রাণী নয়; এমন অভিযোগ কুড়িগ্রাম পৌরসভার নম্বর ওয়ার্ডের গোরস্থানপাড়া এলাকার বাসিন্দা রিক্তা, সুমি, সাধনা, মীম, নাছরিন, বিলকিছ, মিতু, ভাবনাদের। এখন তাদের দাবি ওই সংস্থার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার।

কুড়িগ্রাম পৌরসভার নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর রোস্তম আলী তোতা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ফাইট আনটিল লাইট (ফুল) যুব সংস্থার নির্বাহী পরিচালক আব্দুল কাদের নম্বর ওয়ার্ডে প্রায় ৪০০ সদস্য করে প্রত্যেকের কাছ থেকে ৩৯০ টাকা হারে তুলে নিয়েছে। তারা একদিন শুধু পৌরসভায় একদিন মেডিক্যাল ক্যাম্প করেছিল।

নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর জমসেদ আলী জানান, নম্বর ওয়ার্ডে মা শিশুর স্বাস্থ্য পুষ্টির কার্ড দিয়ে ৮০০ সদস্যের কাছ থেকে ৩৯০ টাকা হারে তুলে নিয়েছে। কিন্তু কোনো ধরনের সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হয়নি।

শুধু যে পৌর এলাকায় এমন প্রতারণা করেছে সংস্থাটি তা নয়। জেলার ইউনিয়ন পর্যায়েও রয়েছে তার কার্যক্রম। জানতে চাইলে কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার ঘোগাদহ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল মালেক জানান, তার ইউনিয়নে ফুল যুব সংস্থার মা শিশুর স্বাস্থ্য সহায়তা প্রকল্পের নামে কয়েক হাজার মানুষকে সদস্য করে জন প্রতি রশিদ দিয়ে ৩০০ টাকা হারে নিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। সেখানেও কোনো ধরনের সুযোগ-সুবিধা পায়নি হতদরিদ্র পরিবারগুলো।

গত নভেম্বর জাতীয় যুব দিবস-২০২৪ জেলার শ্রেষ্ঠ যুব সংস্থা হিসেবে নির্বাচিত হয় ফাইট আনটিল লাইট (ফুল) যুব সংস্থা। কুড়িগ্রাম জেলা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আলী আর রেজা ব্যাপারে বলেন, ‘আমরা তাদের ধরনের কার্যক্রম সম্পর্কে অবগত নই। কেউ অভিযোগ করলে আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখব। 

ফুলের যুব সংস্থার নির্বাহী পরিচালক আব্দুল কাদের কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ আগস্টের পরবর্তী সময়ে কাজ বন্ধ আছে। আমাদের এখানে মোট কার্ডধারী সদস্য রয়েছে ১৮০০ জন।

ভুক্তভোগীদের দাবি, তারা একদিন ছাড়া কোনো সেবা পাইনিএমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘ভাই, আমি একটা মিটিংয়ে আপনি এক ঘণ্টা পর কল করেন। পরে আবার একই প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, ‘প্রকল্পের তালিকাভোগীর তালিকা করতে তাদের মাস লেগেছিল। সদস্য নেওয়া শেষ হলে তাদের সেবা দিই।

 

প্রতিবেদকঃ তামজিদ হাসান তুরাগ, কালের কণ্ঠ

 

Post a Comment

0 Comments