কালবেলায় সংবাদ প্রকাশের পর কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার এক মুঠো ভাতের জন্য প্রতিবন্ধী ছেলেকে নিয়ে বৃদ্ধা মায়ের জীবনযুদ্ধ সেই বৃদ্ধা বছিরন বেগমের পাশে দাঁড়ালেন রাজারহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আল ইমরান। বৃহস্পতিবার (১৯ ডিসেম্বর) দুপুরে তিনি নিজে ওই বৃদ্ধা বছিরন বেগমের বাড়িতে গিয়ে খোঁজখবর নেন এবং ১০ কেজি চাল,ডাল,তেল সহ নগদ ৩ হাজার টাকা ও শীতবস্ত্র কম্বল আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন। এ ছাড়াও তিনি বসবাসের জন্য ঘর ও চিকিৎসা ব্যবস্থার আশ্বাস দেন। এ সময় রাজারহাট উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান ও উমর মজিদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আহসানুল কবির আদিল উপস্থিত ছিলেন।
রাজারহাট উপজেলার বাসিন্দা বছিরন বেগম (৭৬)। তার সন্তান প্রতিবন্ধী। ক্ষুদ্রাকৃতির মাথা ও বুদ্ধি প্রতিবন্ধী। ওদের বাবা বেঁচে থাকতে কষ্টটা কম ছিল। কিন্তু মারা যাওয়ায় ২০ বছর ধরে একাই প্রতিনিয়ত সংগ্রামের মধ্য দিয়ে অনেক কষ্টে তাদের লালন-পালন করতে হচ্ছে। নিঃসঙ্গ জীবন নিয়ে উমর মজিদ ইউনিয়নের লতাবর গ্রামে জরাজীর্ণ ঝুপড়ি ঘরে ঠাঁই হয়েছে তার। বয়সের ভারে চোখে ঝাপসা দেখা বছিরন বেগম প্রতিদিন সকাল হলেই কেউ খাবার নিয়ে আসবে সেই আশায় পথ চেয়ে বসে থাকেন। এলাকাবাসীর কেউ খাবার দিলে দু-মুঠো খেতে পারেন তিনি। তবে মাঝে মধ্যেই অনাহারেই থাকতে হয় বৃদ্ধা বছিরনকে।
প্রতিবেশীর খাবারের আশায় পথ চেয়ে থাকেন ৭৬ বছরের বছিরন বেগমের খোঁজ নিয়ে জানা যায়,উপজেলার উমর মজিদ ইউনিয়নের লতাবর এলাকায় থাকেন বৃদ্ধা বছিরন বেগম।
টিনের ছাউনির একটি ছোট্ট ঘরে কোনোরকম মানবেতর জীবনযাপন করছেন তিনি। বিগত সরকার ভূমিহীনদের বসবাসের জন্য ঘর বরাদ্দ দিলেও বৃদ্ধা বছিরন বেগমের কপালে কিছুই জোটেনি। এলাকার সবার ঘরে বিদ্যুতের বাতি জ্বললেও তার ঘরে জ্বলে পুরোনো কেরোসিন তেলের কুপি। একটু বাতাস হলেই নিভে যায় কুপির সেই আলো। বয়সের ভারে একা চলতে পারেন না তিনি। বৃদ্ধা বছিরন বেগমের প্রতিবেশী আমেনা বেগম বলেন,দীর্ঘদিন ধরে অসহায় এ মানুষটি বাড়ি বাড়ি চাল-ডাল সংগ্রহ করে দিনযাপন করছিলেন। পাড়া-প্রতিবেশীদের দেওয়া দু-মুঠো খাবারেই ক্ষুধা নিবারণ করেন।
আরেক প্রতিবেশী জাহিদ হাসান বাদশা বলেন, বহু বছর থেকে প্রতিবন্ধী ছেলেকে নিয়ে বসবাস করছেন বছিরন। একটু বাতাস হলেই ঝুঁকিতে পড়ে তার ঝুপড়ি টিনের ঘর। বৃষ্টির পানি বৃদ্ধি পেলেই পানির নিচে তলিয়ে যায় তার ঘর। প্রশাসন যদি বছিরন বেগমের পাশে দাঁড়ায় তাহলে শেষ জীবনটা ভালোভাবে কাটাতে পারবেন। বৃদ্ধা বছিরন বেগম বলেন,মোর কেউ নাই। বয়স হইছে,চোখে দেখবার পাই না। মানুষ খাবার দেয় সেই খাবার খায়া থাকি,আবার কোনো দিন না খায়াও থাকি। রাতে অনেক কষ্টে হয়। তিনি বলেন,সন্ধ্যা হলে টিনের (বেড়া) ফাঁক দিয়া বাতাস ঢুকে তখন খুব ঠান্ডা লাগে। ফের বর্ষাকালে সময় ঘরত বৃষ্টির পানি ওঠে। সবাই বলে সরকারি ঘর পায়,মোরে কপালত ঘর নাই। সরকার যদি মোক একটা ঘরের ব্যবস্থা করি দেইল হয়,তাইলে উপকার হইল হয়। রাজারহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আল ইমরান বলেন,
বছিরন বেগমের বিষয়টি দৈনিক কালবেলার মাধ্যমে জানতে পারি। খোঁজখবর নিয়ে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ১০ কেজি চাল,ডাল,তেল সহ নগদ ৩ হাজার টাকা ও শীতবস্ত্র কম্বল আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। এ ছাড়াও তাকে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।
প্রতিবেদক: সোহেল রানা,কালবেলা,রাজারহাট

0 Comments