
কুড়িগ্রাম জেলা সদরের পাওয়ার হাউজ পাড়ার বাসিন্দা সরোয়ার আহমেদ জীম। গত বছর হঠাৎ মাদকাসক্ত হয়ে পড়েন পরে গত নভেম্বরে তাকে মাসদকাসক্তি চিকিৎসাকেন্দ্রে ভর্তি করায় পরিবার। চিকিৎসাচলাকীন ছেলেকে দেখতে যান বাবা সৈয়দ আলজ মুন্না। ছেলেকে দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি।
মুন্না বলেন, ‘আমি সামান্য একজন দোকান কর্মচারী। ছেলেকে ভালো করার জন্য অনেক টাকা খরচ করে কুড়িগ্রাম মাদকাসক্তি চিকিৎসা কেন্দ্রে রেখে আসছি। কিন্তু ছেলেকে দেখতে গিয়ে দেখি তার অবস্থা শোচনীয়। তারা তাকে অনেক মেরেছিল সেদিন।
মাদকাসক্তি কেন্দ্রে চার মাস থেকে অনেক ভয়াবহ অভিজ্ঞতার শিকার হয়েছেন জীম।
তিনি বলেন, ‘আমার বাবা- মা আমাকে কুড়িগ্রামের রাজারহাটের মাদকাসক্তি চিকিৎসা কেন্দ্রে পাঠায় চিকিৎসার জন্য। কিন্তু সেখানে গিয়ে আমি নির্যাতনের শিকার হই। ওখানে তারা প্রায় প্রতিদিনই আমাকে মারত।
জীম বলেন, ‘ডাক্তার বলেছে আমার বাম কানের পর্দা ফেটে গেছে। কান দিয়ে এখনও রক্ত পড়ে। শুধু যে তারা প্রত্যেক দিন মারে এমনটা নয়। তারা দুই বেলা করে মরিচ খাওয়ায় তাও একটা দুটো নয় ৮-৯টা করে মরিচ খাওয়ায়।
তার দাবি, মাদকাসক্তি চিকিৎসা কেন্দ্রের ম্যানেজার লিটন পরিচালকের নির্দেশে কর্মী দিয়ে মারধোর করে। মাঝে মাঝে পরিচালকও আমাদের গায়ে হাত তোলে।
এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম মাদকাসক্তি চিকিৎসা কেন্দ্রের পরিচালক শাহ্ জালাল রহসান জীবন বলেন, ‘আমি অসুস্থতার কারণে বিগত দেড় মাস থেকে চিকিৎসা কেন্দ্রে যাই না। তবে আমার চিকিৎসা কেন্দ্রে এ ধরনের কোনো টর্চার হয় না। সেন্টারে সিসি ক্যামেরা লাগানো আছে। সব রেকর্ড থাকে আপনি একদিন সময় করে আসেন দেখতে পারেন।’
সিসিটিভি বন্ধ করে মারা হতো এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘না এ ধরনের কোনো ঘটনা আমার সেন্টারে হয় না। আমাদের সিসি ক্যামেরা কখনোই বন্ধ করা হয় না। এগুলো সব বাননো কথা।’
কুড়িগ্রাম মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক রফিকুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমি এখানে নতুন যোগদান করেছি। এমন কোনো অভিযোগ আমার কাছে আসেনি। তবে আমি বিষয়টি তদন্ত করবো।’
প্রতিবেদকঃ তামজিদ হাসান তুরাগ, কালের কণ্ঠ
0 Comments