Ticker

6/recent/ticker-posts

Header Ads Widget

‘গর্ভকালীন অধ্যক্ষ আমাকে চার তালার ক্লাসে ওঠা-নামা করাতেন’

 গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর কুড়িগ্রাম কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের (টিটিসি) অধ্যক্ষ আইনুল হকের বিরুদ্ধে ধীরে ধীরে মুখ খুলতে শুরু করেছেন ভুক্তভোগীরা। এবার মুখ খুললেন কুড়িগ্রাম টিটিসির এক্সসেলেরেটিং অ্যান্ড স্ট্রেনদিং স্কিল ফর ইকোনেমিক ট্রান্সফরমেশন (অ্যাসেট) প্রকল্পের সাবেক প্রশিক্ষক আসমাতুস জান্নাত রোজা। 




অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে তার অভিযোগ, গর্ভকালীন সময়ে আক্রশমূলকভাবে অধ্যক্ষ তাকে ছুটি না দিয়ে এক তলায় ক্লাস নেওয়ার সুযোগ থাকলেও তাকে দিয়ে চার তালায় ক্লাস নিতে বাধ্য করতেন। ঐ প্রশিক্ষক ২০২৪ সালের মে মাস থেকে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত অ্যাসেট প্রকল্পের কম্পিউটার অপারেশন ট্রেডে ক্লাস নিতেন।

আসমাতুস জান্নাত রোজা বলেন, ‘আমি যখন গর্ভকালীন অবস্থায় ছিলাম তখন কুড়িগ্রাম টিটিসির অধ্যক্ষ আইনুল স্যার আমাকে দিয়ে আক্রশমূলক ভাবে এক তলা থেকে চার তলায় ক্লাস নেওয়ার জন্য ওঠা-নামা করিয়েছিলেন, যেন আমি নিজ ইচ্ছায় চাকরিটা ছেড়ে দেই। কারণ, আমি তার অনৈতিক আদেশ মানতাম না। উনি চাইতেন আমি ওনার লালমনিরহাটে যে প্রতিষ্ঠান, নর্থ বেঙ্গল ইসলামিক ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (এনআইআইএসটি) আছে, সেই প্রতিষ্ঠানের লিফলেট বিতরণ করি। এবং ঐ প্রতিষ্ঠানের জন্য ছাত্র যোগাড় করে দেই।

তিনি আরো বলেন, 'তিনি আমার ওপর এতোটা খিপ্ত হন যে আমি অসুস্থ থাকার পরে তিনি আমার ছুটির আবেদন মজ্ঞুর করেন নি। উল্টো তিনি আমাকে বলেন, ‘তুমি তো সরকারি চাকরি করো না বা আমি তোমাকে যেটা করতে বলতেছি তুমি সেটা করতেছো না, তুমি আশা করো কীভাবে যে তোমাকে ছুটি দেব।’

রোজা বলেন, ‘আমি পরে তার কাছ থেকে দুই মাসের ছুটি নিতে সমক্ষ হই। কিন্তু এর পরে যখন চাকরিতে যোগদানের সময় আসে, তখন তিনি একদিন হুট করেই বলেন, তোমাকে আসতে হবে না, তোমার পদে অন্য একজনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরো  বলেন, ‘উনি ( অধ্যক্ষ) জোর করে আমাকে ওনার প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হতে বলতেন। আমার বেতনটাও ঠিকমত দেওয়া হয় নি। এর প্রতিবাদ করি। এবং ন্যায়ের আশায় টিটিসির উদ্ধতন কর্মতর্তাদের জানালে তিনি বিভিন্নভাবে আমাকে হ্যারাজ করার চেষ্টা করেন। আমাকে হুমকি- ধামকি দেন।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, 'গর্ভকালীন অবস্থাতে নিচ তলাতে ক্লাস নেওয়ার যথেষ্ঠ সুযোগ ছিল। কিন্তু ওনার মোটিভ এটাই ছিল যে, উনি আমাকে চাকরিচ্যুত করবেন। আরো বলেন, আমাদের প্রতিষ্ঠানের নিয়ম রয়েছে। কমিটির মাধ্যমে নিয়োগ দিয়ে নিয়োগপত্র দেওয়ার। কিন্তু তিনি ( অধ্যক্ষ) আমাদের কাইকেই নিয়োগপত্র দেন না। উনি যেন ইচ্ছেমত লোকজন নিয়োগ ও বাদ দিতে পারেন।’ 

অভিযোগের বিষয়ে জানতে অধ্যক্ষ আইনুল হককে গত দুই দিনে একাধিকবার ফোন করেও পাওয়া যায়নি। মোবাইল ফোনে ক্ষুদে বার্তা পাঠিয়েও সাড়া মেলেনি। তবে সম্প্রতি দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, 'আমার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অসত্য ও বানোয়াট। একটি মহল আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে।’


প্রতিবেদকঃ  তামজিদ হাসান তুরাগ, কালের কণ্ঠ

Post a Comment

0 Comments