বছরের প্রথম কালবৈশাখীর ঝড় ও শিলার আঘাতে কুড়িগ্রামে বোরো ধান, ভুট্টার ক্ষেত ও আম লিচুর ক্ষতি হয়েছে।
শনিবার (২৬ এপ্রিল) রাত ১১টা ও সোমবার (২৮ এপ্রিল) ভোর সাড়ে ৪ টার দিকে জেলার বিভিন্ন এলাকায় ঝড় শুরু হয়। এ ঝড় চলে দীর্ঘক্ষণ পর্যন্ত। মাঝ রাতে ঝড়ের সাথে শুরু হয় শিলা বৃষ্টি। ঝড়ে বিদ্যুতের খুঁটি ও তার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় রোববার সারাদিন জেলা শহরসহ বিভিন্ন উপজেলায় বেশ কিছু এলাকায় বিদুৎ বিচ্ছিন্ন ছিল।
কুড়িগ্রামের রাজারহাট কৃষি আবহাওয়া পর্যবেক্ষাণাগার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র সরকার জানান, গত শনিবারের রাতের কালবৈশাখী ঝড়ে বাতাসের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ২২ থেকে ৩২ কিলোমিটার। এর সাথে ৪০.৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। সোমবার (২৮ এপ্রিল) ভোর সাড়ে ৪ টায় বাতাসের অতিবেগ ছিল ৩৭ কিলোমিটার এবং এর সাথে ৩.৯ মিলি মিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, আগামী পাঁচ থেকে ছয় দিন থেমে থেমে হালকা বৃষ্টিপাত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা খোরশেদ আলম বলেন, প্রাথমিকভাবে ২১৮ হেক্টর বোরো ধান, ৯২ হেক্টর ভুট্টা, ৫১ হেক্টর সবজি এবং ১৬ হেক্টর পাট খেতের ক্ষয়ক্ষতির হিসাব পাওয়া গেছে। এই ক্ষয়ক্ষতি কুড়িগ্রাম সদর ও ফুলবাড়ী উপজেলায় বেশি।
ফুলবাড়ী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোছা. নিলুফা ইয়াছমিন জানান, উপজেলা জুড়ে কালবৈশাখীর ঝড়ে ১৮ হেক্টর বোরো ধান, ৩৫ হেক্টর ভুট্টা ও ১ হেক্টর শাক-সবজি হেলে পড়েছে। তবে এসব ফসল নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা নেই। তারপরও কৃষি বিভাগ ঝড়ে হেলে পড়া কৃষকদের ফসল রক্ষার জন্য পরামর্শ অব্যাহত রয়েছে।
কুড়িগ্রামের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) উত্তম কুমার রায় বলেন, ঝড়ে উপড়ে পড়া গাছপালা অপসারণে সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো রোববার সকাল থেকে কাজ করছে। সড়ক যোগাযোগ ও বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করার জন্য আমরা নির্দেশনা দিয়ে আসছি। এছাড়াও দুযোগ ব্যবস্থাপনা শাখাকে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করে প্রয়োজনীয় সহায়তার ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।
প্রতিবেদকঃ অনিল চন্দ্র রায়,
0 Comments