উলিপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জনবল সংকট, ধুলার আস্তরণে নষ্ট হচ্ছে যন্ত্রপাতি
স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত ৫ লক্ষাধিক মানুষ
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ১৯৭৬ সালে ৩৩ শয্যা বিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি প্রতিষ্ঠার পর ২০১৮ সালে তা ৫০ শয্যায় উন্নতি করা হলেও চিকিৎসা সেবার মান বাড়েনি। এ অঞ্চলের মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে জুনিয়র কনসালটেন্টের ১০ পদের বিপরীতে আছেন একজন; মেডিকেল অফিসার, সহকারী সার্জন ও ডেন্টাল সার্জনের ১৬ পদের বিপরীতে আছেন দুইজন। চিকিৎসকের ২৬ পদের ২৩টিই শূন্য রয়েছে। দ্বিতীয়, তৃতীয়, ৪র্থশ্রেণিসহ বিভিন্ন ধরণের ২৭৭টি পদ থাকলেও ১০৪টিই শূন্য রয়েছে দীর্ঘদিন থেকে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্র জানায়, ২টি এক্স-রে মেশিনের ১টি অচল হয়ে আছে দীর্ঘদিন থেকে। ৫টি ইসিজি মেশিনের ৩টি অচল, ২টির মধ্যে সেমিঅটো বায়োমেট্রিক এনালজারের ১টি অচল, সেল কাউন্টার মেশিন নষ্ট হয়ে আছে দীর্ঘদিন থেকে। তাছাড়া সরবরহকৃত বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ব্যবহার না করার কারণে ধীরে ধীরে ধুলাবালির আস্তরণ পড়ে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে সেগুলো।
হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা উপজেলার ধামশ্রেনী ইউনিয়নের মফিজল হক (৪৮) জানান, কয়দিন আগোত ডাইন হাতোত আঘাত পাইছোং, হাসপাতাল আসি ডাক্তার দেখানু, ওমরা কয় এক্স-রে করি আইসেন, এমার বলো মেশিন নষ্ট। তোমরায় কনতো বাহে, হামরা গরীব মানুষ ট্যাকা এ্যলা কটে পাই।
উপজেলার দলদলিয়া ইউনিয়নের আখি বেগম জানান, বিড়াল কামড় দেওয়ায় প্রথমদিন ভ্যাকসিন দিলেও আজ বলেছে, ভ্যাকসিন নাই। কুড়িগ্রাম হাসপাতালে যান।
বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসা মহিরন বেগম (৫৫), জছিজল হকসহ অনেকেই বলেন, যে জ্বর, সর্দি ছাড়া কোনো রোগের ওষুধ নেই হাসপাতালে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ জনবল সংকটে চিকিৎসা সেবা ব্যাহত হওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, এ বিষয়ে বহুবার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। কিন্তু সমাধান হয়নি।
তথ্যসূত্রঃ ইত্তেফাক

0 Comments