Ticker

6/recent/ticker-posts

Header Ads Widget

তিস্তার হঠাৎ পানি বৃদ্ধি: কুড়িগ্রামে তলিয়ে গেলো রবিশস্য, শঙ্কায় হাজারো কৃষক

 


টানা চার দিনের বৃষ্টি ও উজানের পাহাড়ি ঢলে কুড়িগ্রামের তিস্তা, ব্রহ্মপুত্র ও ধরলা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, যদিও নদ-নদীর পানি বাড়ছে, তা এখনো বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে তাৎক্ষণিক বন্যার শঙ্কা নেই।

তবে তিস্তা নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় রাজারহাট ও উলিপুর উপজেলার চরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। বিশেষ করে রাজারহাট উপজেলার থেতরাই ইউনিয়নের চর কিশোরপুরে ব্যাপক বাদাম ক্ষেত পানির নিচে চলে গেছে। এতে বাদামের গাছ পচে যাওয়ার আশঙ্কায় রয়েছেন কৃষকরা।

রাজারহাট উপজেলার বিদ্যানন্দ ও ঘড়িয়ালডাঙ্গা ইউনিয়নেও একই চিত্র। হঠাৎ পানির তোড়ে কৃষকরা অপরিপক্ক বাদাম ও মরিচসহ বিভিন্ন ফসল তড়িঘড়ি করে তুলে নিচ্ছেন। চরবাসীদের ভাষ্যমতে, ভারতের গজলডোবা ব্যারেজ দিয়ে পাহাড়ি ঢল ছেড়ে দেওয়ার কারণেই এ পানি বৃদ্ধি ঘটেছে।

রাজারহাট উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে তিস্তার জেগে ওঠা চরগুলোতে ১৭৫ হেক্টরে চিনাবাদাম, ২০ হেক্টরে পাট, ৩ হেক্টরে মরিচ ও ৫ হেক্টরে শাকসবজির চাষ হয়েছে। বর্তমানে এসব জমি পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় কৃষকরা ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

রাজারহাট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাইফুন্নাহার সাথী জানান, বিদ্যানন্দ ও ঘড়িয়ালডাঙ্গার নামার চরগুলোতে তলিয়ে যাওয়া বাদাম ক্ষেত থেকে কৃষকদের দ্রুত ফসল তুলে নিতে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

অন্যদিকে, উলিপুর উপজেলা কৃষি অফিস জানায়, চলতি বছর বাদাম চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩৬৫ হেক্টর জমি, যা অর্জিত হয়েছে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি। লাভজনক হওয়ায় প্রতিবছরই এই অঞ্চলের চরাঞ্চলে বাদাম চাষ বাড়ছে।

স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, হঠাৎ পানি বাড়ার ফলে অনেকেরই বাদাম ও মরিচ ক্ষেত নষ্ট হয়ে গেছে। দ্রুত পানি না সরলে অবশিষ্ট ফসলও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

উলিপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোশারফ হোসেন বলেন,যেহেতু বাদাম প্রায় পরিপক্ক, তাই কৃষকদের দ্রুত ফসল তুলে নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে এবং সরকারিভাবে প্রণোদনা এলে তা দ্রুত বিতরণ করা হবে।


প্রতিবেদকঃ মাইদুল ইসলাম মামুন, হামার কুড়িগ্রাম

Post a Comment

0 Comments