পয়স্তি-শিকস্তি আইনের অপব্যাখ্যা ও প্রশাসনিক অনিয়মের ফলে কৃষকদের ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি খাস খতিয়ানে অন্তর্ভুক্ত করার অভিযোগে কুড়িগ্রামে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান করেছে রাষ্ট্র সংস্কার কৃষক আন্দোলন।
রোববার (১ জুন) সকালে কুড়িগ্রাম শহরের কেন্দ্রীয় শাপলা চত্বরে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে আগত শতাধিক কৃষক, অধিকারকর্মী ও সাধারণ মানুষ অংশগ্রহণ করেন।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন আরিফুল ইসলাম, রিয়াজুল ইসলাম, বারেক মিয়া সহ সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, যারা বছরের পর বছর সেই জমিতে ঘর তুলেছে, ফসল ফলিয়েছে, কর প্রদান করেছে—তাদের জমিকে হঠাৎ করে খাস খতিয়ানে দেখানো মানে হলো রাষ্ট্র নিজেই তার নাগরিকদের ওপর দখলদারির আচরণ করছে। এতে করে কেবল ভূমির মালিকানাই কেড়ে নেওয়া হচ্ছে না, বরং কৃষকের সামাজিক মর্যাদা, অর্থনৈতিক নিরাপত্তা এবং আত্মমর্যাদাকেও পদদলিত করা হচ্ছে।”
বক্তারা আরও বলেন, পয়স্তি-শিকস্তি আইনের ভুল ব্যাখ্যা ও অপপ্রয়োগের মাধ্যমে প্রশাসনের কতিপয় দুর্নীতিপরায়ণ ব্যক্তি এবং প্রভাবশালী মহল মিলে একটি নিরীহ কৃষক সমাজকে ভূমিহীন করে তোলার ষড়যন্ত্র করছে। তারা এ ধরণের নীতিকে কৃষক ও গ্রামীণ অর্থনীতির জন্য ‘ঘাতক’ বলেও উল্লেখ করেন।
আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখলে থাকা এবং সরকারি খাজনা পরিশোধ করে আসা জমিকে হঠাৎ করে সরকারি খাস খতিয়ানে দেখানো হচ্ছে। এতে প্রকৃত চাষাবাদকারীরা ভূমির মালিকানা হারানোর পাশাপাশি নানামুখী হয়রানির শিকার হচ্ছেন।
জেলার কয়েকটি উপজেলায় এমন অনিয়মের অভিযোগ ইতোমধ্যে পাওয়া গেছে। কোথাও কোথাও ভূমি অফিস থেকে কৃষকদের নামে নোটিশ পাঠানো হচ্ছে, কিন্তু রেকর্ড সংশোধনের কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেই।
মানববন্ধন শেষে আন্দোলনের পক্ষ থেকে একটি প্রতিনিধি দল কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে ভূমি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি পেশ করে। এতে কয়েকটি মূল দাবি তুলে ধরা হয়- পয়স্তি-শিকস্তি আইনের অপপ্রয়োগ বন্ধ, খাস খতিয়ানে জমি অন্তর্ভুক্তির সকল কার্যক্রম স্থগিত, প্রকৃত ভোগদখলকারীদের মালিকানা ও অধিকার নিশ্চিত।
রাষ্ট্র সংস্কার কৃষক আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ জানান, তারা শান্তিপূর্ণ ও ন্যায্য দাবি নিয়ে রাজপথে নেমেছেন। তবে দাবি উপেক্ষিত হলে ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত আন্দোলন ছড়িয়ে দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। তাদের ভাষায়, এই আন্দোলন শুধু জমির জন্য নয়—এটি জীবন, মর্যাদা ও আত্মপরিচয়ের জন্য সংগ্রাম।
প্রতিবেদকঃ আতিকুর রহমান
0 Comments