Ticker

6/recent/ticker-posts

Header Ads Widget

দুর্বল নির্মাণ ও ভারী যানবাহনের চাপে ধ্বংসের মুখে পাঁচপীর-যমুনা সড়ক –লোকমান হোসেন লিমন

 


উলিপুর (কুড়িগ্রাম), ১৫ জুন ২০২৫


কুড়িগ্রাম জেলার উলিপুর উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের পাঁচপীর বাজার থেকে যমুনা বাজার পর্যন্ত সড়কটি বর্তমানে চরম বেহাল দশায় রয়েছে। মাত্র এক বছর আগে নির্মিত এ সড়কটি ইতোমধ্যে তিনবার সংস্কার করা হলেও তা টেকসই হয়নি। স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করছেন, নির্মাণকাজে নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার ও সঠিক তদারকির অভাবেই সড়কটির এই দুরবস্থা।


সড়কটির দৈনন্দিন ব্যবহারে সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধকতা হয়ে দাঁড়িয়েছে ভারী মালবাহী যানবাহনের চলাচল। বিশেষ করে ভোররাত ও গভীর রাতে ৪ থেকে ৫টি বড় জাম বালুবাহী ট্রাক এই পথে নিয়মিত চলাচল করে, যার ফলে সড়কে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হচ্ছে। এতে বিভিন্ন স্থানে দেখা দিয়েছে ফাটল, গভীর গর্ত ও ধস—ফলে যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে, সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।


স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, “এই সড়ক দিয়েই প্রতিদিন স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে কৃষক ও ব্যবসায়ীরা যাতায়াত করেন। কিন্তু রাস্তার বর্তমান অবস্থা এতটাই নাজুক যে চলাচল করাটাই যেন এক আতঙ্কে পরিণত হয়েছে।”


বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কুড়িগ্রাম জেলা শাখার যুগ্ম সদস্য সচিব লোকমান হোসেন লিমন বলেন, “পাঁচপীর-যমুনা সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত। আমরা বারবার স্থানীয় প্রশাসনকে অবহিত করেছি, কিন্তু কোনো কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। দুর্বল নির্মাণ ও ভারী যানবাহনের অতিরিক্ত চাপের কারণে রাস্তার বর্তমান অবস্থান প্রায় চলাচলের অনুপযোগী। আমরা দাবি জানাচ্ছি, অবিলম্বে এই সড়কের পূর্ণাঙ্গ পুনঃনির্মাণ নিশ্চিত করা হোক এবং নির্মাণ কাজে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বজায় রাখা হোক। প্রয়োজনে স্থানীয়দের অংশগ্রহণে একটি তদারকি কমিটি গঠন করা হোক, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্নীতি ও নিম্নমানের কাজ আর না ঘটে।”


সড়ক ও অবকাঠামো বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভারী যানবাহনের জন্য নির্মিত সড়কের ভিত্তি ও উপরিভাগ যথাযথভাবে শক্তিশালী না হলে তা দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত হয়। মানসম্মত উপকরণ ছাড়া শুধুমাত্র বারবার সংস্কার করে টেকসই সমাধান পাওয়া সম্ভব নয়।


এ অবস্থায় স্থানীয়রা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলছেন, সড়কটি পুনঃনির্মাণের সময় যেন উন্নতমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করা হয় এবং ভারী যানবাহনের চলাচলের জন্য একটি নির্দিষ্ট ওজনসীমা নির্ধারণ করে তা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়।


জনস্বার্থে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেবে—এমনটাই প্রত্যাশা এলাকাবাসীর।

Post a Comment

0 Comments