কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি || ৯ জুলাই
কুড়িগ্রামে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে হিন্দু পরিবারের উপর হামলার অভিযোগ উঠেছে মোঃ ওয়াহেদ আলী (৪৫) ও আজিজুল হক নামের দুই প্রভাবশালী ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় মা ও মেয়ে গুরুতর আহত হয়ে কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
আহতরা হলেন—সদর উপজেলার ঘোগাদহ ইউনিয়নের দুবাছুরি গ্রামের ধনপুত সরকারের স্ত্রী জোৎস্না বালা ও তাদের মেয়ে সপ্তমী বালা। এ ঘটনায় জোৎস্না বালা সদর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগসূত্রে জানা যায়, ধনপুত-জোৎস্না বালা দম্পতির নিজস্ব মাত্র ২ শতক পৈতৃক জমি রয়েছে। বাকি সময় তারা অন্যের জমিতে বসবাস করে আসছেন। সেই ২ শতক জমি দখল করে নেয় প্রতিবেশী সুলতান, যিনি সেখানে নিজের বসতবাড়ি নির্মাণ করেন এবং ধনপুত-জোৎস্না বালাকে নিঃস্ব করে মারধর ও নানা ধরনের হুমকি দিয়ে আসছেন। সুলতান আলী দীর্ঘদিন ধরেই জমি দখল করতে গালিগালাজ, বিশৃঙ্খলা ও শারীরিক নির্যাতন চালিয়ে আসছেন। পরবর্তীতে স্থানীয় চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে সালিশ বৈঠকে জমির দখল পুনরায় পেলেও নির্যাতন ও হুমকি থেকে রেহাই পাননি তারা।
এই ঘটনার ধারাবাহিকতায় আজ দুপুরে সুলতানের ভাড়াটে লোক ওয়াহেদ আলী ও আজিজুল হামলা চালায় ওই পরিবারের উপর। অভিযোগ রয়েছে, হামলার সময় জোৎস্না বালাকে শ্বাসরোধ করে বিবস্ত্র করে মারধর করা হয় এবং মেয়ে সপ্তমী বালাকেও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয় ও অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয়। বর্তমানে আহত জোৎস্না বালা কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
প্রতিবেশী মোঃ হাবিবুর রহমান বলেন, “জোৎস্না বালার নিজস্ব মাত্র ২ শতক পৈতৃক জমি রয়েছে। কিন্তু সেটির দখল না পাওয়ায় অন্যের জমিতে বসবাস করতে হচ্ছে। সুলতানের ভাড়াটে লোকজন তাদের প্রতিনিয়ত হুমকি ও মারধরের শিকার করছে। এটি অত্যন্ত অন্যায়। এদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার হওয়া উচিত।”
ঘোগাদহ ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক মোঃ মিজানুর রহমান বলেন, “হামলাকারী ওয়াহেদ ও আজিজুল দলের কেউ নয়। বিষয়টি জেলা নেতৃবৃন্দকে জানানো হয়েছে। দলের নাম ব্যবহার করে কেউ অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়ালে তা দল কখনোই মেনে নেবে না।”
এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ হাবিবুল্লাহ জানান, “ঘটনাটি নিয়ে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্তসাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

0 Comments