ঘূর্ণিঝড় ‘শক্তি’র প্রভাবে নাগেশ্বরী উপজেলা ও আশপাশের এলাকায় বিরামহীন বৃষ্টি ও দমকা হাওয়ায় জনজীবনে নেমে এসেছে স্থবিরতা। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে শুরু হওয়া গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি শুক্রবার পর্যন্ত থামেনি। টানা বৃষ্টির সঙ্গে যোগ হয়েছে দমকা হাওয়া, যা জনদুর্ভোগকে পৌঁছে দিয়েছে চরমে।
বৈরী আবহাওয়ার সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন দিনমজুর, রিকশাচালকসহ খেটে খাওয়া মানুষজন। কাজে বের হতে না পারায় অনেক পরিবারকে উপোস অবস্থায় দিন কাটাতে হচ্ছে।
বৃষ্টির পাশাপাশি দমকা হাওয়ার কারণে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এতে করে ব্যাটারি চালিত অটোরিকশার চলাচল ব্যাপকভাবে কমে গেছে। রাস্তাঘাটে জনসাধারণের চলাচলও অনেক কমে গেছে। বাজারগুলো ক্রেতা-বিক্রেতাশূন্য, আর উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ ঘাটগুলো কার্যত অচল হয়ে পড়েছে।
উপজেলার দুধকুমার, ফুলকুমার ও ব্রহ্মপুত্রসহ বিভিন্ন নদ-নদী এখন প্রচণ্ডভাবে উত্তাল। নদীতে পানি ও ঢেউয়ের তীব্রতা দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতিকে আরও শঙ্কাজনক করে তুলেছে।
বৃহস্পতিবার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা থাকলেও ছাত্রছাত্রীদের উপস্থিতি ছিল অপ্রতুল। রিকশাচালক হামিদুল (৩৭) বলেন, গত দুই দিনে তেমন ভাড়া পাইনি। অলস সময় কেটে যাচ্ছে। সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। এখন ধার-দেনায় দিন পার করছি।
অন্যদিকে, ধান ও ভুট্টা কাটার মৌসুম চলমান থাকলেও আবহাওয়ার কারণে কৃষকরা মাঠে নামতে পারছেন না। রায়গঞ্জ এলাকার কৃষক শাহানুর বলেন,কাটা ধান পানিতে পড়ে নষ্ট হচ্ছে, খড়ও ভিজে যাচ্ছে। এভাবে বৃষ্টি চলতে থাকলে খড়ের সংকট দেখা দিতে পারে।
বৃষ্টির প্রভাব পড়েছে হাট-বাজারেও। বৃহস্পতিবার নাগেশ্বরীর গরুর হাটে কোরবানির পশুর উপস্থিতি ছিল খুবই কম। বৃষ্টিতে ভিজে ক্রেতা-বিক্রেতারা চরম ভোগান্তির মুখে পড়েছেন।
শুধু মানুষ নয়, গবাদিপশুরাও ভোগান্তিতে রয়েছে। মাঠে পানি জমে থাকায় তাদের স্বাভাবিক চলাফেরা ব্যাহত হচ্ছে।
সব মিলিয়ে ঘূর্ণিঝড় ‘শক্তি’ নাগেশ্বরীতে এক স্থবির ও দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। জনজীবন কার্যত অচল হয়ে পড়েছে।
প্রতিবেদকঃ মাইদুল ইসলাম মামুন
0 Comments