রিমান্ডের আসামিদের এএসআই হাবিবুর রহমান কুড়িগ্রাম জেলহাজত থেকে গ্রহণ করে নিজে সঙ্গে না এসে কনস্টেবলের মাধ্যমে রৌমারী থানায় পাঠানোর ঘটনায় তাকে ক্লোজ করা হয়। অপরদিকে এসআই আব্দুল আওয়াল ওই রিমান্ডের আসামিদের রহস্যজনক কারণে অতি আপ্যায়নের অভিযোগে তাকে ঢুষমারা থানায় স্ট্যান্ড রিলিজ করা হয়েছে। কুড়িগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার এ আদেশ দিয়েছেন।
গতকাল বুধবার (১১ জুন) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রৌমারী থানার ওসি নন্দলাল চৌধুরী। এ ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় আলোচনা-সমালোচনার ঝর উঠেছে।
পুলিশ, বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৭ মে (মঙ্গলবার) গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রৌমারী উপজেলার যাদুরচর ইউনিয়নের আলগারচর গ্রামে অভিযান চালিয়ে মাদক সম্রাট আনোয়ার হোসেনের (৪৯) ও মানিক মিয়া (২৯) নামের পিতা-পুত্রকে আটক করা হয়। এ সময় মাদক কারবারিদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে নিজের জীবনরক্ষার্থে আট রাউন্ড গুলি ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
এ ঘটনায় পিতা ও পুত্রের বিরুদ্ধে রৌমারী থানায় মাদক এবং পুলিশের ওপর হামলাসহ সরকারি কাজে বাধার অপরাধে তাদেরসহ ৪০-৫০ জনের নামে দুইটি মামলা দায়ের করা হয়। আটক আসামি আনোয়ার হোসেনের (৪৯) ও মানিক মিয়া (২৯)-কে কুড়িগ্রাম জেলহাজতে প্রেরণ করা হয় এবং ৫ দিনের রিমান্ড চেয়ে কোর্টে আবেদন করে পুলিশ। যার পরিপ্রেক্ষিতে আদালত পিতা ও পুত্রকে এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার (৫ জুন) তাদের আনার জন্য রৌমারী থানার এএসআই হাবিবুর রহমান দুই কনস্টেবলকে সঙ্গে নিয়ে যান এবং জেল থেকে দুই আসামিকে বুঝে নেন।
কিন্তু তিনি আসামিদের সঙ্গে না এসে কনস্টেবলের মাধ্যমে রৌমারী থানায় পাঠিয়ে দেন। বিষয়টি পুলিশ সুপারকে অবগত করা হলে এএসআই হাবিবুর রহমানকে পুলিশ লাইনে ক্লোজ করা হয়।
অপরদিকে থানায় রিমান্ডে নেওয়া আসামিদের রহস্যজনক কারণে আপ্যায়ন করার অপরাধে এসআই আব্দুল আওয়ালকে ঢুষমারা থানায় স্ট্যান্ডরিলিজ করা হয়েছে।
রৌমারী থানার ওসি নন্দনাল চৌধুরী বলেন, ‘কুড়িগ্রাম জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশে এএসআই হাবিবুর রহমানকে কুড়িগ্রাম পুলিশ লাইনে ক্লোজড এবং এসআই আব্দুল আওয়ালকে ঢুষমারা থানায় স্ট্যান্ড রিলিজ করা হয়েছে।’
তথ্যসূত্রঃ কালের কণ্ঠ
0 Comments