Ticker

6/recent/ticker-posts

Header Ads Widget

কলাপাতা ছেড়ে ফের পলিথিনে লবণ বিক্রি করছেন সমসের আলী

 

পলিথিনের পরিবর্তে পরিবেশ বান্ধব কলাপাতায় লবণ বিক্রি করে বেশ প্রশংসা কুড়িয়েছিলেন সমসের আলী। তবে কিছুদিনের মধ্যে দেখা গেল ভিন্ন চিত্র। কলাপাতা ছেড়ে ফের নিষিদ্ধ পলিথিনে লবণ বিক্রি করছেন তিনি।

 

উপজেলার খরিবাড়ী বাজারে গিয়ে দেখা গেছে, লবণ ব্যবসায়ী আবারও পূর্বের ন্যায় পলিথিনে করে লবণ বিক্রি করছেন।

গত দুই আড়াই মাস আগে অন্তবর্তীকালীন সরকারের পলিথিন নিষিদ্ধের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে নিজে থেকেই কলাপাতা দিয়ে মোড়ানো এক কেজি লবণের প্যাকেট করে লবণ বিক্রি করতে দেখা গেছে। সে সময় তার এই উদ্যোগকে অনেকেই সাধুবাদ জানিয়েছেন। অনেকেই তার এই কলাপাতা মোড়ানো লবণের প্যাকেট ও দোকানের ছবি সামাজিক যোগাযোগে মাধ্যম পোষ্ট করেছেন।

তিনি ২০২৪ সালের নভেম্বর মাসের ৩ তারিখ থেকে টানা ১৬ থেকে ১৭ দিন কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার খরিবাড়ী বাজারে কলাপাতা দিয়ে মোড়ানো প্যাকেট তৈরি করে ক্রেতাদের কাছে বিক্রি করেন। সে সময় কলাপাতায় বিক্রির প্রতিবেদনটি জনপ্রিয় মাল্টিমিডিয়া অনলাইন পোর্টাল দ্য নিউজসহ একাধিক গণমাধ্যমে আসে।

খরিবাড়ী বাজারে বিভিন্ন জনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তার উদ্যোগটি খুবই ভালো ছিল। কিন্তু তার কলাপাতায় লবণ বিক্রি করার বিষয়টি প্রথম থেকেই বাজারের অন্য ব্যবসায়ী ভালো দৃষ্টিতে নেয়নি। অন্যদিকে কলাপাতায় করে ১৬ থেকে ১৭ দিনেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো প্রকার সহযোগিতা পায়নি। পরে তিনি স্থানীয় ব্যবসায়ীর চাপে কলাপাতায় লবণ বিক্রি ছেড়ে ফের নিষিদ্ধ পলিথিনে লবণ বিক্রি শুরু করেছেন। প্রশাসনের নজরদারি না থাকায় পলিথিন নিষিদ্ধ করার পরেও বিভিন্ন হাট বাজারের ক্রেতা ও বিক্রেতারা অবাধে নিষিদ্ধ পলিথিন ব্যবহার করেই যাচ্ছে।

লবণ ব্যবসায়ী সমসের আলী (৬০) জানান, সেই সময় আমি পত্র-পত্রিকা ও টেলিভিশনের সংবাদ দেখে জানতে পারি পলিথিন ব্যবহার বন্ধ করে দেন সরকার। তখন আমি ব্যক্তিগত ভাবে সরকারের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে কলাপাতা দিয়ে মোড়ানো এক কেজি লবণের প্যাকেট করে বিক্রি করতে শুরু করি। অনেকেই সাধুবাদ জানিয়েছেন। আপনারও আমার কলাপাতায় লবণ বিক্রির বিষয়টি পত্রিকায় তুলেও ধরেছেন। আমারও ভালো লেগেছে।

আপনি কলাপাতা ছেড়ে আবারও পলিথিনে লবণ বিক্রি করছেন এমন প্রশ্ন করলে তিনি জানান, দেখেন ভালো প্রশ্ন করেছেন। আমি টানা ১৬/১৭ দিন কলাপাতায় লবণ বিক্রি করলাম। এই খবরটিও সারা দেশে ছড়িয়ে পড়লো। অথচ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও পরিবেশ নিয়ে কাজ করা কেউ আমার খোঁজ নিলো না। আপনিও একদিন এসে ঐ যে গেলেন, প্রায় দুই মাস পরে আসলেন। আমিতো টাকা-পয়সা চাই না। আমি চেয়েছিলাম কলাপাতায় লবণ বিক্রির বিষয়টি মনিটরিং করা হোক।

এ প্রসঙ্গে কুড়িগ্রামের পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. রেজাউল করিম জানান, লবণ ব্যবসায়ী সমসের আলীর কলাপাতায় লবণ বিক্রির বিষয়টি আমরা অবগত ছিলাম। এটা ভালো উদ্যোগ। হঠাৎ কেন তিনি কলাপাতায় লবণ বিক্রি ছেড়েছেন সেটা দেখার জন্য আমরা দ্রুত সেখানে যাবো। সেখানকার বাজার কমিটির সাথে কথা বলে ওই লবণ ব্যবসায়ীকে পলিথিনের ব্যবহার বন্ধ করে ফের কলাপাতায় লবণ বিক্রির জন্য তাকে সবধরণের সহযোগিতা করবো।


প্রতিবেদকঃ অনিল চন্দ্র রায়, ফুলবাড়ী

Post a Comment

0 Comments